খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশের ১০টি ব্যবহার

খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশের ১০টি ব্যবহার

খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশের ১০টি ব্যবহার

রান্না ও খাওয়া-দাওয়ার প্রক্রিয়ায় অনেক কিছুই উচ্ছিষ্ট তৈরি হয় প্রতিদিন। যেমন চায়ের পাতা, ফল ও সবজির খোসা, মাছ বা মাংসের অপ্রয়োজনীয় অংশ ইত্যাদি। আর এগুলো আমরা ফেলে দিই সোজা ময়লার ঝুড়িতে। কিন্তু না, ডাস্টবিনে ফেলার আগে দুবার ভাবুন। কেননা খাবার দাবারের এই উচ্ছিষ্ট অংশ দিয়েই আপনি করে ফেলতে পারবেন নতুন কিছু। আর বলাই বাহুল্য যে সেটা অপচয় রোধ করে আপনার সংসার খরচ কমিয়ে আনবে অনেকখানি!

দেখে নিন ১০টি সুন্দর ব্যবহারঃ

১) চা তৈরির পর কী করেন? নিশ্চয়ই ফেলে দেন? এবার থেকে ফেলে না দিয়ে এই ফেলনা চা পাতা দিয়ে দিন আপনার গাছগুলোর গোঁড়ায়। অসাধারণ সারের কাজ করবেন। রঙ চা হলে চা পাতা ঠাণ্ডা করেই দিতে পারেন। দুধ চা হলে চা পাতা ভালো করে ধুয়ে তারপর দেবেন।

২) লেবু কাটার সময় অনেকটা অংশই ফেলনা যায়। এই ফেলনা অংশ গুলো রেখে দিন ফ্রিজে, আপনার ফ্রিজ থাকবে গন্ধ মুক্ত। কিংবা ভিজিয়ে রাখতে পারেন পানিতে বা শরবতে। দারুণ একটা বাড়তি ফ্লেভার আসবে।

৩) লেবু বা কমলার খোসা দিয়ে তৈরি করা যায় দারুণ মজার ক্যান্ডি, যা ঘরে থাকে অনেক দিন। লেবু বা কমলার খোসার ভেতরের সাদা অংশটি ছিলে তুলে ফেলুন। তারপর খোসাগুলো চিকন টুকরো করে নিন। এগুলোকে জ্বাল দিন চিনির সিরায়। ভালো মত সিদ্ধ হয়ে গেলে ও সিরা টেনে আসলে তুলে প্লেটে ছড়িয়ে দিন। শুকিয়ে ওপরে চিনি জমে গেলে বক্সে ভরে রাখুন।

৪) লেবু, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি টক জাতীয় ফলের খোসার সাদা অংশটি ফেলে সেগুলোর ছোট টুকরো রেখে দিন চিনির মাঝে। কোন রকম বাড়তি টাকা ছাড়াই ফ্লেভারড চিনি পেয়ে যাবেন আপনি!

৫) অনেক বাড়িতেই মাছের মাথা, লেজ, কানকো ইত্যাদি খাওয়া হয় না। এগুলো ফেলে না দিয়ে নিজের বাড়ির বেড়াল, নাহলে প্রতিবেশির বেড়াললে দিতে পারেন। অন্যদিকে জ্বাল দিয়ে রেখে ফিশ ষ্টক তৈরি করতে পারেন, যা দিয়ে পরে স্যুপ তৈরি করতে পারবেন আপনি। মুরগির পা বা হাড়গোড় দিয়েও একি কাজ করতে পারেন।

৬) টমেটো কাটছেন? মাথার অংশটা ফেলে না দিয়ে মুখে ঘষে নিন। এটা ন্যাচারাল ব্লিচের কাজ করে মুছের দাগছোপ দূর করবে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

৭) টমেটো, শসা, আলু ইত্যাদি যেসব খোসা পচনযোগ্য; এসব সমস্তই আপনি ব্যবহার করতে পারেন গাছের গোঁড়ায়। সার কেনার জন্য কখনোই আর একটা টাকা খরচ করতে হবে না।

৮) পটলের খোসা, লাউয়ের খোসা, এমনকি কাঁচকলার খোসা দিয়েও চমৎকার সব ভর্তা করা যায়। সিদ্ধ করে সরিষার তেলের মাঝে ভেজে নিন। তারপর ধনেপাতা ও লবণ দিয়ে বেটে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে মাখিয়ে নিলেই ভর্তা রেডি!

৯) তরমুজের খোসাও আপনি ব্যবহার করতে পারেন গাছের গোঁড়ায়। অন্যদিকে সবুক অংশটি ছিলে ফেলে বাকিটা দিয়ে তৈরি করতে পারেন দারুণ মজার তরকারী। ঠিক যেভাবে পেঁপে রাঁধেন, সেভাবেই রাঁধবেন।

১০) লেবু বা কমলার খোসা দারুচিনির সাথে পানিতে ফুটিয়ে নিন, ঘরের ভ্যাপসা ঘন্ধ দূর হয়ে যাবে একেবারেই। শুকিয়ে গুঁড়ো করে রাখতে পারেন। পরে ব্যবহার করতে পারেন ফেসপ্যাকে বা স্ক্যাবার হিসাবে।

এই রেসিপি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *